Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    পরিমল ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প984 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – ৮.১

    ৮.১

    ডিপিটি-র বুস্টার টিকা নেবার পর বাপ্পার ফের তড়কা হলো। এবার কলকাতায়। রথীন তার কয়েকদিন আগেই বীরভূম থেকে বদলি হয়েছে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে। সদরে সার্কিট হাউস থেকে অফিস করছে, নতুন জায়গায় গুছিয়ে না-বসা পর্যন্ত ওদের আনা সম্ভব নয়। সেদিন কলুটোলা লেনের বাসায় শিউলি ছাড়া আর কেউ ছিল না। সকালে পৌর ক্লিনিকে টিকা নিয়ে আসার পর প্রত্যাশা মতোই জ্বর এল, আর জ্বর এলে বাপ্পার যেটা হয়, গলার কাছে নীল জন্মদাগটা স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠল। শিউলি প্রথমে অ্যাকোনাইট ৩০ তারপরে জেলসিমিয়ামের গুলি জিভে দেবার পরেও কাজ হলো না। দুপুর গড়াতে লাগল, জ্বরটাও লাফিয়ে বাড়তে লাগল। নীলচে রঙটা ছড়িয়ে পড়ল সারা দেহে, বিশেষত ঠোঁট দুটো কালচে বেগনি হয়ে উঠল। কপালে মাথায় গনগনে জ্বরের তাপ অথচ হাত পা বরফের মতো ঠান্ডা। জ্বরের বিকারে কান্নার ফোঁপানিটাও থেমে গেল, স্থির কাঠের পুতুলের মতো হয়ে গেল বাপ্পা।

    আগের বার আদিরামবাটিতে বাড়িভর্তি লোকজন ছিল। এবারে সম্পূর্ণ একা দিশেহারা শিউলির চিৎকারে একতলার ভাড়াটিয়া প্রবীণ মারাঠি দম্পতি ছুটে এলেন। গলির দোকানিরাও দুচারজন জুটে গেল। হেলথ সেন্টারে নিয়ে গেলে সেই ডাক্তারকে পাওয়া যাবে কি না, নাকি সামান্য দূরে মেডিকেল কলেজেই সোজা নিয়ে যাওয়া উচিৎ হবে, এইসব জল্পনা হচ্ছে যখন তারই মাঝে গুমটির দোকানে ছোলা- বাদামভাজা বিক্রি করেন যে বয়স্কা হিন্দুস্থানি মহিলা, তিনি গলির মোড়ে পানের দোকানে ছুটে গিয়ে বরফ নিয়ে এলেন। নিজেই বাথরুম থেকে বালতিতে জল এনে তাতে ফেলে সেই বরফ-গলা জল মগে করে ঢালতে শুরু করলেন অচৈতন্য বাপ্পার মাথায়। সেই দৃশ্য দেখে শিউলি সমেত উপস্থিত সকলে হতবাক, কিন্তু এমন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সেই বাদামওয়ালী কাজটা করছিলেন যে তাকে বাধা দেবার সাহস কারো হলো না।

    এবং আশ্চর্যজনকভাবে, মিনিটখানেকের মধ্যেই বাপ্পার ঠোঁটে নীলচে বেগুনি বিষের মতো রঙটা কেটে গেল, শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়ে এল, ফের কাঁদতে শুরু করলে সে। ক্লিনিক থেকে ডাক্তারকে ধরে আনা হলো যখন ততক্ষণে বাপ্পা বিপদমুক্ত, জ্বরও আয়ত্তের মধ্যে। বিকেলের মধ্যেই জ্বর ছেড়ে গেল। পুরুলিয়ায় সদর অফিসে ট্রাঙ্ক কল বুক করে জানা গেল রথীন ফিল্ড ট্যুরে বেরিয়েছে, ফিরতে রাত হবে। অপেক্ষা না করে শিউলি সেদিন সন্ধ্যাবেলাতেই বাপ্পাকে নিয়ে চলে এল এই পৃথিবীতে তার একমাত্র আশ্রয়স্থলে।

    রামপ্রাণ বললেন, চিকিৎসাশাস্ত্রের পরিভাষায় এই ব্যাধির নাম হলো ফেব্রাইল কনভালশন, তীব্র জ্বরের মধ্যে মস্তিষ্কে একধরনের শর্ট সার্কিট ঘটে। সেই হিন্দুস্থানী মহিলা কীভাবে জ্বর নামিয়েছেন শুনে বললেন, তিনি যা করেছেন ঠিক সেই কাজটা যে কোনো বিচক্ষণ ডাক্তারেও করত। তার কারণ ঠিক সেই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি ছিল জ্বরের তাপ কমানো, নচেৎ সুকুমার মস্তিষ্কে স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যেতে পারত। এবং মাথায় বরফগলা জল ঢালার জন্য এরপর নিউমোনিয়া হয়ে গেলেও ক্ষতি নেই, কারণ তার নির্দিষ্ট চিকিৎসা রয়েছে।

    রঘুনাথপুর থেকে রথীন আসার পর বাপ্পাকে কলকাতায় নামী শিশু বিশেষজ্ঞ দেখানো হলো, কিন্তু তিনি কোনো রোগ খুঁজে পেলেন না। ছোটোবেলায় তীব্র জ্বরে তড়কার খিঁচুনি তেমন বিরল কোনো উপসর্গ নয়, বড়ো হবার পর আপনা থেকেই চলে যায়। কিন্তু খেয়াল রাখা দরকার জ্বর হলে যেন কোনো মতেই বাড়তে না দেওয়া হয়।

    এই ঘটনার পর শিউলি বাপ্পাকে নিয়ে একা কলুটোলা লেনের ফ্ল্যাটে থাকতে চাইল না। এদিকে রঘুনাথপুরে সরকারি কোয়ার্টার পেতে রথীনের আরও কয়েক সপ্তাহ লাগবে। সেই সময়টায় শিউলিরা কিছুদিন সাতগাঁয় থাকবে ঠিক হলো।

    বাপ্পার কাছে এর থেকে ভালো খবর আর কীই বা হতে পারে? সাতগাঁ হলো এক আশ্চর্য দেশ, সবুজ রঙের ছোটো রেলগাড়ি চেপে যেখানে যাওয়া যায়, যে দেশটায় বাপ্পার মন পড়ে থাকে সারাক্ষণ, তা সে কলকাতা ডুয়ার্স বীরভূম যেখানেই থাকুক, যেখানে বাপ্পার আরেকটা সত্তা থাকে, যে সাতগাঁ ছেড়ে কখনো কোথাও যায় না, এবং যেখানে তিতলি নামে তার এক খেলার সাথি থাকে।

    তিতলির কাছেও এর থেকে ভালো খবর আর কিছুই হতে পারে না। যেবার তোলাঘরে তৃতীয় নয়ন দেখাবে বলে সে সিন্দুকে ঢুকে সতীর শাড়ি জড়ালো আর প্রথম বার তড়কা হলো বাপ্পার, তারপর তিতলি ওকে বারে বারে জিজ্ঞেস করত সেই মূর্ছা যাবার কয়েক মিনিট সে ঠিক কী দেখেছিল? সেবার বাপ্পা কেবল মনে করতে পেরেছিল ভিজে মাটি, আমের পাতার গন্ধ আর যেন বহুকাল আগের একটা সবজেটে আলো। এবারেও একইভাবে চাপাচাপি করতে লাগল তিতলি।

    ইতিমধ্যে বাবা-মায়ের কাছে, দিদার কাছে, রেডিওর কাছে গল্প শোনার স্তর থেকে গল্প পড়ার স্তরে উন্নীত হয়েছে বাপ্পা, কারোর সাহায্য ছাড়া আস্ত গল্পের বই শেষ করতে পারে। তিতলিকে সে বলতে লাগল কীভাবে ঐ অচৈতন্য সময়টায় একটা অন্ধকার সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে ঢুকে পড়েছিল এক আশ্চর্য জগতে, যেখানে গাছেরা কথা বলে, ডায়নোসর নামে এক রকমের বিশাল প্রাণী ডানা মেলে আকাশে ওড়ে, একই সঙ্গে সূর্য আর চাঁদ দেখা যায় মাঝ আকাশে। বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের দোলায় দুলতে দুলতে তিতলি কখনো চোখ গোল গোল করে, কখনো পেনসিল চিবোতে চিবোতে হেসে উঠে বলে

    ‘ধ্যাৎ! মিথ্যুক কোথাকার!’

    ইতিমধ্যে অনেকটা লম্বা হয়েছে সে, প্রায় বাপ্পার মাথায় মাথায়, দুধে দাঁত পড়ে গিয়ে নতুন দাঁত উঠেছে। বাপ্পার নতুন দাঁত উঠেছে আগেই, কিন্তু সামনে ওপরের দুটো দাঁত কোদালের মতো, কারণ ওই দাঁতদুটো পড়েছিল কলকাতায় আর কলুটোলা লেনের বাসায় কোনো ইঁদুরের গর্ত ছিল না। জন্মানোর পর পীচফলের গায়ে রোঁয়ার মতো তিতলির ত্বকে যে সূক্ষ্ম রোম ছিল সেসব ঝরে গিয়েছে, কেবল চিবুকে জুলফির কাছে ছাড়া, তবুও বাপ্পা ওকে এখনও কখনো কখনো শুয়োপোকা বলে ডাকে, যেটা ওর মায়ের পছন্দ নয়।

    ‘ওর একটা ভালো নাম আছে তো!’ — প্রতিবার বাপ্পাকে মনে করিয়ে দেয় নতুনবউ।

    তিতলির ভালো নাম জ্যোতিকণা, যে নামে ওকে স্কুলের সহপাঠী আর শিক্ষিকারা ডাকে, যা ওর দাদু, নতুনবউয়ের বাবা, রেখেছিলেন তিতলি জন্মানোর আগেই। রামকানাইয়ের জন্ম তিনি দেখে যেতে পারেননি।

    বহুকাল পরে এই দিনগুলোর কথা স্মরণ করতে গিয়ে বাপ্পার মনে হবে, সেইসব দিনগুলো রাতগুলো ওর চেতনায় একটা অন্যরকম স্পষ্টতা নিয়ে ফুটে উঠছিল। তার আগের আলোআঁধারি দশাটা যেন ক্রমশ কেটে যাচ্ছিল। এই সময়ে আদিরামবাটিতে আলোছায়ার ছাঁদ, অ্যান্টনি মারা যাবার পর দুপুরের নৈঃশব্দ্যগুলো, মহাসাগরীয় প্লেটের মতো মেঝের ফাটলের চলন, বর্ষায় দেয়ালের ঘেমে ওঠা শাকম্ভরী দেবীর মৃত্যুর পর চুনের প্রলেপের ভেতর থেকে যেখানে হাতের ছাপগুলো ফুটে উঠেছিল এসবের সজীব অস্তিত্ব ক্রমশ প্রভাব বিস্তার করছিল ওর চেতনায়।

    কলুটোলা লেনের বাসায় দিনের বেলা সরাসরি সূর্যের আলো ঢোকে না, পাশের উঁচু বাড়ির গা থেকে প্রতিফলিত প্রভায় আলোকিত হয়। দিনের বেলাতেও টিউবলাইট জ্বলে গলির ভেতর প্রায় সব বাড়িতেই। সেই আলোয় কোনো ছায়া পড়ে না।

    আদিরামবাটিতে টিউবলাইট নেই, সব ঘরেই জ্বলে হলুদ ফিলামেন্টের বাল্‌ব, যার টানে নানান জাতের পোকা ঝাঁক বেঁধে আসে বাড়ির পেছনে শিয়ালকাটার ঝোপ থেকে বিশেষ করে শরতের শেষে, হেমন্ত শুরুর আগে। সকালবেলায় দিদা বামুনদিদারা ঝাঁট দিয়ে ফেলে মৃত পোকার স্তূপ। কিন্তু বাড়ির পোষা বেড়াল ধুলো, কিংবা বেপাড়ার অন্য বেড়াল তাতে মুখ দেয় না কখনো। ওই শিয়ালকাটার ঝোপের নীচে আদিরামবাটির বহু প্রজন্মের মৃত শিশু আর গর্ভফুল পোঁতা আছে।

    বহুকাল পরে স্মৃতির চোখ দিয়ে বাপ্পা স্পষ্ট দেখতে পাবে: সন্ধ্যাবেলা ঢাকা বারান্দার মেঝেয় মাদুর বিছিয়ে হোমওয়ার্ক করতে বসেছে তিতলি। কানাইও স্লেট পেনসিলে অক্ষর লিখতে শিখেছে, পরের বছর থেকে ইস্কুলে যাবে। বাপ্পার ইস্কুল নেই, হোমওয়ার্ক নেই। কালচিনি চা বাগানের ইস্কুলে কিছুদিন, সেখান থেকে খয়রাশোলের ইস্কুলে সরাসরি ক্লাস থ্রি, তারপর সিউড়ির ইস্কুলে কিছুকাল যেতে শুরু করার কিছুদিনের মধ্যেই ছেদ পড়ল ফের। যতদিন না রঘুনাথপুরে গিয়ে ওরা থিতু হয়, বাড়িতেই পড়াশোনা করবে। ওখানে নতুন ইস্কুলে ভর্তি হবার আগে শিউলি ওকে বিভিন্ন বিষয়ে পড়ায়। রথীন ছুটিতে কিংবা সপ্তাহান্তে কলকাতায় এলে যেসময়ে মা-ছেলে কলুটোলা লেনের বাসায় চলে আসে— বাপ্পাকে অঙ্ক শেখায়।

    বারান্দায় টেবিল ল্যাম্পের আলো ঘিরে তিনটি ছোটো ছেলেমেয়ে, সবচেয়ে ছোটোটি স্লেট পেন্সিল ছড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। ওর মা এসে কোলে তুলে ঘরে নিয়ে যায়। অপর দুই বালক বালিকা একজন পড়ে কনভেন্ট স্কুলের ইংরিজি বই, আরেকজন বাংলা মাদুরে উপুড় হয়ে হোমটাস্ক করে। এদিকে বাইরের চিকন অন্ধকার থেকে আলোর টানে এসে ঢোকে নানাবর্ণের উচ্চিংড়ে আর মথ–তাদের কারোর ডানায় আঁকা বিস্ফারিত চোখ, কারোর হেলিকপ্টারের মতো আকার, কারোর বা গায়ে মধ্যযুগের সৈনিকের মতো বর্ম আঁটা। বাপ্পা পোকাগুলোর গায়ে পেনের নিব ছুঁইয়ে কালি লেপে দিয়ে, ডানায় গঁদের আঠা লাগিয়ে দিয়ে নিষ্ঠুর খেলায় মাতে।

    জোরে হাওয়া দিলে মাঝেমধ্যেই কোথাও ইলেকট্রিকের তারে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ চলে যায়, অন্ধকার ঘিরে আসে। রামকানাই চিৎকার করে কেঁদে ওঠে, আমবনে ঝিঁঝির শব্দ বেড়ে যায়, পায়খানার ধারে কুয়োয় শাপভ্রষ্ট ব্যাঙের দল মুগ্ধবোধ আবৃত্তি করে। সজীব সজ্ঞান অন্ধকারে বাপ্পার পায়ের কাছে রোমশ কী যেন ছুঁয়ে যায়।

    শিউরে উঠে বাপ্পা তিতলিকে জিজ্ঞেস করে— ‘তুই করলি?’

    ‘না তো!’ তিতলি বলে।

    এবার তিতলির পিঠে কী যেন টোকা দেয় দুবার। ‘বাপ্পাদাদা তুই করলি?’

    ‘কই না তো!’ বাপ্পা বলে।

    অন্ধকারের ভেতর দুটো হাত চুপিসাড়ে পরস্পরের দিকে এগিয়ে যেতে গিয়ে হাতে হাতে ধাক্কা লাগে, খিলখিল করে হেসে ওঠে দুজনেই। আর তখনই কেরোসিনের লম্ফ হাতে নিজের বিপুল ছায়া টানতে টানতে এসে ওদের খেলা ভঙ্গ করে দেয় বামুনদিদা–

    ‘ঢের লেকাপড়া হয়েচে, এবার পাততাড়ি তোলো গো, গরম ভাত নেমেছে এসে খেয়ে নাও!’

    বাপ্পা-তিতলির আঙুলে যে অশরীরীরা এসে ভর করেছিল, বামুনদির গলা শুনে তারা ছায়া হয়ে ঘরের কোণে ছিটকে যায়, চুনখসা দেয়ালে লাফ দিয়ে উঠে বাড়তে বাড়তে ক্রমশ কুলুঙ্গি, চিনেমাটির বয়াম, টিকটিকি, ঠাকুরের বাঁধানো ছবি সব গিলে নিতে থাকে। রাতে আর বিদ্যুৎ আসে না। বিশুকা ঠাকুরবাড়ির কাজ সেরে এসে উঠোনের সিঁড়িতে বসে গল্প বলে। নিমগাছের মাথায় তারায় ভরা আকাশ নেমে আসে। গামাও এসে উঠোনে উবু হয়ে বসে গল্পের টানে।

    বিশুকার গল্পগুলো দিদার গল্পের মতো বয়ে চলে না, একেকটি বিষয় ঘিরে পাক খায় কিস্সার আকারে। তাতে তথ্য আর বিবরণ থাকে— চারপাশের জানাচেনা বস্তুজগত থেকে পেড়ে আনা, পায়খানার কুয়োয় কপিকলে চুঁচুপেত্নির (ওরফে গুয়েপেত্নি) কথা, কুয়োর ভেতর শাপগ্রস্ত ব্যাঙদের কথা, আরও নানান গোত্রের অশরীরী ভূতপ্রেত ডান্ পরী যাঁরা সাতগাঁয় থাকেন, সাধারণ মানুষের মাঝে মিশে থাকেন হাটে ঘাটে বাজারে, যাঁদের চেনা দুষ্কর। কখনো কখনো উলটোনো গোড়ালি দেখে তেনাদের চেনা যায়। আশেপাশে বেড়াল থাকলে তাদের আচরণ দেখেও চেনা যায়। বাতাসে অন্যরকম গন্ধ থেকেও চেনা যায়।

    অন্তাই, দত্তাই, মড়ি, খড়ি এঁরা সকলেই পুরুষ ভূত; দত্তাইয়ের মুলোর মতো দাঁত, নড়ি ও বড়ির চেহারাতেই নামের প্রকাশ
    একানড়ে তালগাছের মতো ঢ্যাঙা, এক পায়ে হাঁটেন
    পেতনি, শাকচুন্নী নারী ভূত; শাকচুন্নী বিবাহিতা, শাঁখা সিঁদুর পরেন
    ব্ৰহ্মদত্যি ব্রাহ্মণ ভূত
    মামদো মুসলমানের ভূত
    গেছো গাছে বাস করেন
    মেছো পোড়া কিংবা কাঁচা মাছ ভালোবাসেন
    স্কন্ধকাটা মুন্ডহীন
    ভুলো, কানাওলা যাঁরা পথিককে পথ ভুলিয়ে ঘুরিয়ে মারেন
    নিশি মাঝরাতে চেনা মানুষের গলায় ডাক দেন যিনি, সাড়া দিলেই আত্মাটা ডাবের খোলার মধ্যে ভরে নিয়ে চলে যান
    আলেয়া যিনি জলে ডুবে মরেছেন

    *

    সব ভোজ্য যে রান্নাঘরেই প্রস্তুত হয় না, প্রকৃতির মাঝে সর্বত্র ছড়িয়ে আছে, এই সত্যটা খুব ছোটোবেলাতেই বাপ্পার নিবিড় উপলব্ধি হয়েছিল আদিরামবাটিতে। এইসব অপ্রচলিত খাদ্যের সন্ধান জানত মান্দাসী। ও-ই শিখিয়েছিল কীভাবে নিতে হয় টগর কল্কে জবা ও অন্যান্য ফুলের বোঁটায় মধুর নিষিদ্ধ স্বাদ (পুজোর ফুলগাছে হাত দেওয়া মানা ছিল), উঠোনে ইটের ফাকে আমরুলের টোকা স্বাদ, বাগানের ধারে গঙ্গামাটির পাহাড়ে বর্ষার পর ঝেপে আসা লতানে বন-টমেটোর স্বাদ। এইসব বিবিধ বিচিত্র স্বাদে বাপ্পার আবছা মনে পড়ত ছেড়ে আসা শৈশবে অভক্ষ্য পরখ করার স্বাদগুলো জানলার গরাদে লোহার স্বাদ, মায়ের শাড়ির আঁচলের স্বাদ, নীল গোলাপি হলুদ রবারের প্লাস্টিকের খেলনার স্বাদ। প্রতিটি রঙেরই আলাদা আলাদা স্বাদ, সেই স্বাদের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য পুরাণকথা, যার পলকা আলোআঁধারি ভাষা দুধে-দাঁত পড়ে গিয়ে নতুন দাঁত ওঠার পর, অক্ষরজ্ঞান হবার পর হারিয়ে যায় চেতনা থেকে। চিনিকাকার বর্ণনায় কাঁচা সিদলের স্বাদের মতো তাকে আর গল্পে বাঁধা যায় না, এমনকি মায়ের মুখে শোনা গঙ্গায় মেছোদের নৌকায় রুপোলি ইলিশের মতোও তাকে বাঁধা যায় না কথার চাপান-উতোরে

    ‘কর্তা, আছে নাকি?’

    ‘না গিন্নি, নেই!’

    কলুটোলা লেনে যেমন, আদিরামবাটিতেও তেমনই বড়োদের দৈনন্দিনের অনেকখানি জুড়ে থাকে খাদ্য, খাদ্য ঘিরে নানান অনুশাসন, খাদ্যের নানান পদ ও তার রন্ধন প্রণালী নিয়ে চর্চা। প্রতিটি ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে জিভে নতুন স্বাদকোরক ও পাকযন্ত্রের চাহিদা অনুযায়ী খাদ্যে বিশেষ বিশেষ উপাদানের প্রাধান্য দেখা দেয়— বসন্তের শুরুতে তেতো (নিমপাতা, উচ্ছে), গ্রীষ্মের শুরুতে টক (তেঁতুল, কাঁচা আম), শীতের শুরুতে মশলা (মেথি, জিরে, দারুচিনি)।

    কিন্তু যে খাদ্যবস্তুটি ঘিরে সাতগেঁয়েদের আবেগ স্বপ্ন অনুভূতির অন্ত নেই, সেটি প্রকৃতির দান: আম।

    মৎস্যভূমিতে আমের বনে মুকুলের সৌরভ একদা দূর দেশের বণিকদের ছলনাময়ী নদীখাত দিয়ে টেনে এনেছিল এতদূর। ফাল্গুনের শুরুতে মৌসুমি বাতাসে পাল তুলে তারা আসত। বসন্ত শেষ হয়ে এলে আমের মুকুলে গুটি ধরে, ঘন নীলাভ হয়ে ওঠে, তপ্ত দুপুরের পর আচমকা আকাশ কালো করে কালবৈশাখীর ঝড় উঠলে কচি আম পেন্ডুলামের মতো দুলে দুলে ছিঁড়ে পড়ে। শিশুরা বালক- বালিকারা বাগানে ছুটোছুটি করে আম কুড়োয়, নুন সরষের তেল মাখিয়ে সেই কাঁচা আম খাওয়া হয়, বাড়ির মেয়েবউরা আচার কাসুন্দি করে। কিন্তু জ্যৈষ্ঠ মাসে আম পাকতে শুরু করার পর এবাড়ির কেউ দেবতা আদিরামকে নিবেদন না করে পাকা আম দাঁতে স্পর্শ করবে না। দশহরার আগে সরোজা পাকা আম সরস্বতীতে ভাসাবেন; কাশীবাসী হবার পর যতদিন শাকম্ভরী দেবী জীবিত ছিলেন ততদিন বাড়ির সবচেয়ে প্রবীণ সদস্যাটির জন্যও একটি টুসটুসে পাকা আম ভাসাতেন। তারপরেই শুরু হয় দুই মাস ব্যাপী আম ভক্ষণের কাল।

    মহালয়ার আগে যেমন, ঠিক তেমনই গ্রীষ্মে রামপ্রাণ জামাতা রথীন্দ্রনাথকে পত্র লিখবেন। মুক্তোর মতো হস্তাক্ষরে লেখা সেই পত্রে কুশল সম্ভাষণ, শুভেচ্ছা ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত উপদেশাবলী থাকবে, এবং থাকবে আদিরামবাটিতে আম পেকে ওঠার সংবাদ, সেই বছর বিভিন্ন প্রজাতির আমের ফলন সংক্রান্ত খবরাখবর— শিলাবৃষ্টিতে কোন কোন জাতের আম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কোন আমের ফলন সন্তোষজনক এবং তারপর থাকবে সপরিবারে এসে কিছুদিন থেকে আম ভক্ষণের আমন্ত্রণ। তবে কর্মস্থলে দায়দায়িত্বের কারণে নিজের আসা যদি একান্তই অসম্ভব হয়, যা সহজেই অনুমেয়, তাহলে শিউলি ও বাপ্পাকে সাতগাঁয় পাঠানোর ব্যবস্থা করলে বাড়ির সকলে বড়ো প্রীত হয়, ইত্যাদি।

    বিয়ের পরে-পরেই একবার জামাইষষ্ঠীতে শাশুড়িমাতার নিজে হাতে বানানো কলকাতার বিভিন্ন দোকানের কিংবদন্তীপ্রতিম সুখাদ্যের বিশুদ্ধ নিরামিষ সংস্করণ আস্বাদ করার পর আর কখনো জামাইষষ্ঠীতে রথীনের সাতগাঁয় যাবার অবসর হয়নি। রামপ্রাণের চিঠি পাবার পরেও রঘুনাথপুরে নতুন কর্মস্থলে ব্যস্ততার কারণে সেটা যে সম্ভব হবে না শিউলি জানত, এবং শিউলি যে জানে সেটাও রথীন জানত।

    এদিকে আলিপুরদুয়ারের মতোই এখানেও রথীনের লেখা হাতচিঠি নিয়ে তার অফিস অ্যাসিস্টেন্টের হাত ধরে বাপ্পাদিত্য গঞ্জের সবচেয়ে বড়ো ইস্কুলে যেতেই প্রধান শিক্ষক ঐকিক নিয়মের একটি অঙ্ক ও গাছ নিয়ে একটি রচনা লিখতে দিয়ে ওকে সোজা চতুর্থ শ্রেণির ক্লাসঘরে পাঠিয়ে দিলেন। সেখানে একেবারে ফার্স্ট বেঞ্চিতে স্থান হলো তার।

    প্রথমেই পাটিগণিতের ক্লাস। শিক্ষকের পরনে নীলে ছোপানো কলারতোলা কুর্তা আর ঢোলা পাজামার নীচে বুটজুতো। ক্লাসঘরে ঢুকেই কোনো কথা না বলে ব্ল্যাকবোর্ডের দিকে ফিরে একটি বই থেকে লম্বা লম্বা সিঁড়িভাঙা অঙ্ক কষতে শুরু করে দেন। কেউ গোলমাল করলে নিজে কিছু করেন না, লাস্ট বেঞ্চিতে একজন ষন্ডা গোছের ছাত্রকে ইশারায় নির্দেশ দেন, সে-ই অপরাধীকে ওঁর হয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক গাঁট্টা মেরে আসে।

    ছেলেদের কারোর কারোর গা থেকে বের হয় একটা অচেনা বিকট গন্ধ (যা অনেক বছর পরে বাপ্পা জানতে পারবে মহুয়ার তেলের গন্ধ)। লম্বাটে ঘাসজমির মাঝখানে হলদে রঙের একতলা ইস্কুলবাড়িটার পেছনেই একসারি পলাশগাছ, একটি গাছের নীচু ডালে ট্রাকের টায়ার ঝুলিয়ে দোলনা। তার পাশে একটি কুয়ো, যাতে জল শুকিয়ে গিয়েছে।

    ইস্কুলে যেতে শুরু করার সাত দিনের মধ্যেই শুরু হলো দাবদাহ, ছুটি পড়ে গেল। একতলা বাংলোয় জানলা দরজা বন্ধ করে বারান্দায় ভিজে খসখস ঝুলিয়েও তার প্রকোপ ঠেকানো যায় না। প্রেতের মতো, লৌহবাসরে কালনাগিনির মতো ঠিক ভেতরে ঢুকে পড়ে, মেঝেয় আসবাবপত্রে সর্বত্র শুকনো পাথুরে ধুলোর পরত পড়ে যায়। বাংলোর বাগানে রুক্ষ পাথুরে জমিতে শিউলি যে ফুল আর মরশুমি সবজির গাছ লাগানোর চেষ্টা করছিল, সেই গাছগুলো এলিয়ে পড়ে।

    রঘুনাথপুরে গ্রীষ্ম মানেই জলাভাব, দেড় মাস ইস্কুল বন্ধ। শিউলি আর বাপ্পা যে এই সময়টায় সাতগাঁয় চলে যাবে সেটা স্বতঃসিদ্ধ। কিন্তু রথীনের এসময়ে সত্যিই কোথাও যাবার উপায় নেই। সরকার থেকে চাষিদের ঋণ দিয়ে গভীর নলকূপ বসিয়ে বোরো ধান চাষের প্রকল্প শুরু হয়েছে, জিপে চড়ে ব্লকে ব্লকে পরিদর্শনে যেতে হয়।

    পুরুলিয়া থেকে রাতের চক্রধরপুর প্যাসেঞ্জারে চেপে ভোরবেলায় হাওড়া, সেখান থেকে লোকাল ট্রেনে বন্দর হুগলি। তারপরেই শুরু হয় সেই স্বপ্নের যাত্রা। কোয়ার্সভিল-চাদেরডাঙা, দুফের চিনিকল পার হবার পরেই রেললাইনের দুপাশে আমের বনে গাছগুলো ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে, গাছের নীচে ইজারাদারদের রাতপাহারার খোড়ো ছাউনি, হনুমানের তান্ডব ঠেকাতে দূরে ক্যানেস্তারা পেটানোর শব্দ রেলের চাকায় কেরেস্তান-গোরস্তান কেরেস্তান-গোরস্তান ধ্বনি ছাপিয়ে শোনা যায়। সাতগাঁর বাতাস ম ম করে পাকা আমের গন্ধে। চারিদিকে শুধু আম আর আম – বাঁশের ঝাঁকায় ভরা, চৌকি তক্তপোশের নীচে আমপাতার বিছানায় রেখে জাক দেওয়া বাগানের আম, ছাড়িগঙ্গার ওপারে গ্রামে রামপ্রাণের রুগিদের বাগিচা থেকে আসা, রামশশাঙ্ক চক্রবর্তীর আমলের শিষ্যবাড়ি থেকে আসা বেতের টুকরিতে আম, সকালে জলখাবারে চিঁড়েমুড়ির সঙ্গে আম, দুপুরে ভাতের পাতে, বিকেলে এবং রাতের বেলায় আমদুধ, ঠাকুরঘরে বিশুকার পুষ্যি উনত্রিশ দেবীদেবতার জন্য দড়ির শিকেয় রাখা বিশেষ খুঁতবিহীন আম, ভিক্ষা চাইতে আসা ভিখারির পাত্রেও আম, গলির বাঁকে জাবরকাটা ষাঁড়ের জন্যে আম, আমের খোসা, নিশ্বাসে ঘামে পাকা আমের গন্ধ, এমনকি চুঁচুপেত্নির কপিকলে টানা বালতির জলেও, আমের গন্ধে আসা সর্বত্র নীল ডাঁশ মাছি, দূরদূরান্ত থেকে আসা জ্ঞাতিগুষ্টি, বাড়ির পেছন দিকে আমের বনে ভামবেড়ালের দল।

    সদাসতর্ক, ক্ষিপ্র এই নিশাচরদের দেখা যায় না। কখনো কখনো গোবিন্দভোগ চালের মতো ওদের গায়ের গন্ধ পাওয়া যায়। সরস্বতীর পাড়ে পোড়ো ধ্বংসস্তূপে ওরা থাকে, আমের মরশুমে বাড়ির পেছনে বনে চলে আসে। ঘন অন্ধকারে ঘড়ির রেডিয়াম ডায়ালের মতো চোখ জ্বলতে দেখা যায়। অর্কিডে ছাওয়া দৈত্যাকার আমগাছগুলো যত প্রাচীন, সেই গাছের আম ততই ছোটো আর মিষ্টি। সকালবেলায় পাঁচিলের ওপর গাছের ডালে ভামবেড়ালের বিষ্ঠার মালায় ফুটে থাকে ক্ষুদে মধুগুলগুলি আমের আঁটি। কখনো ওরা এল-ডোরাডোর দোতলার বারান্দায় ঢুকে পায়রা শিকার করে। একদিন কার্নিশের ওপর দেখা গেল পর পর তিনটি জালালি কবুতর, ঠোঁট আর পা-দুটো আকাশে তোলা যেন রামনবমীর মেলায় আসা তুলোর পাখি, বিশুষ্ক, গলার কাছে ফুটো করে সব রক্ত শুষে নেওয়া হয়েছে।

    তিতলি জানালো, আগের রাতে বাতাসে গোবিন্দভোগ চালের গন্ধ পেয়েছিল সে। ভামবেড়ালের গায়ের বিশিষ্ট গন্ধ, যা কেবল ওর সূক্ষ্ম ঘ্রাণেন্দ্রিয়ে ধরা পড়েছে। সেই রাতে ও কিছু খেল না, কাঁদতে লাগল। ওর দুঃখ কেবল ওই তিনটি পায়রার জন্যেই নয়, অ্যান্টনির জন্যেও।

    ছোটো ছোটো কালচে সবুজ আম, নীচের দিকটা টিয়াপাখির ঠোঁটের মতো লাল আর বাঁকানো, ভেতরে জাফরান রঙের শাঁস — সাতগাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত এই আমের নাম পাদরি আম। পাদরিবাবার অবিস্মরণীয় সৃষ্টি।

    গাছ থেকে পাড়ার পর পাদরি আম দিন দুয়েক রেখে দেওয়াটা দস্তুর। তারপর সঠিক পরিপক্ক হলে ধারালো বঁটিতে, সম্ভব হলে কাঠের ছুরিতে কাটা হয়। আদিরামবাটিতে এই কাজটা করেন সরোজা। যে নিবিড় মমতায় যত্নে তিনি এবাড়ির শিশুদের পরিচর্যা করেছেন, সেভাবেই পাদরি আম কাঁথার বিছানায় মসলিন চাপা দিয়ে রেখে, মাঝেমাঝে উলটে পালটে দিয়ে, প্রতিটি আম পরখ করে খাবার জন্য বের করে দেন।

    কিন্তু আম জিনিসটায় বাপ্পার ঘোর অরুচি। তার কারণ আমের এই নাছোড় সর্বব্যাপী গন্ধ কাঁচা সিদলের মতো, যা বাড়িময় সর্বত্র, এমনকি পায়খানার বাতাসেও ম ম করে।

    একদিন বিকেলে সরোজা ওর হাত ধরে ভাঁড়ার ঘরে নিয়ে এসে তক্তপোশের নীচ থেকে একটি টুকটুকে পাকা পাদরি আম বেছে নিয়ে কিছুক্ষণ ধরে টিপে টুপে নীচের দিকে সরু অংশটায় দাঁত দিয়ে ছোট্ট ফুটে করে চেপে ধরলেন বাপ্পার ঠোঁটের ফাকে। ওর দুহাতে ধরিয়ে দিয়ে তর্জনি আর বুড়ো আঙুল দিয়ে টিপতেই বাপ্পার মুখ ভরে উঠল আশ্চর্য মিষ্টি রসে, এক অনির্বচনীয় সুখে ওর দুচোখ বুজে এল, দুহাতে আঙুল দিয়ে টিপে টিপে, রস চুষে চুষে সদ্যশৈশবে মায়ের স্তন্য পানের স্মৃতির চেয়েও নিবিড়, যেন বা বিগত কোনো জন্মে কালবৈশাখীর আমের বাগানে ডাচ কোকোর স্বাদের মতো গভীর কোনো অনুভূতির প্লাবন বইল গোটা শরীরে। এক নতুন ধর্মে দীক্ষিত হলো সে। এরপর ক্রমশ আম ভক্ষণের প্রকৃষ্ট উপায় ও তার প্রতিটি ধাপ আয়ত্ত হয়ে উঠবে:

    ১ – বেছে নিতে হবে সুপক্ক নিখুঁত আম

    ২ – আমটি দুহাতে ধরে, শিশুর পলকা দেহে মালিশ করার মতো করে, নীচের দিক থেকে (যেদিক থেকে আম পাকতে শুরু করে) ক্রমশ ওপর দিকে তর্জনি আর বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠের সাহায্যে টিপতে হবে

    ৩ – আমের নীচের দিকে দাঁত দিয়ে ছোট্ট ছিদ্র করে ঠোঁটে চেপে ধরতে হবে

    ৪ – চুষতে হবে, একই সঙ্গে রস ও শাঁস আঙুলে টিপে টিপে ছিদ্রের দিকে ঠেলতে হবে

    ৫ – অনেকক্ষণ চোষার পর যখন মুখে আর রস আসবে না, খোসার ভেতর আঁটি নড়ছে টের পাওয়া যাবে, তখন ছিদ্রের দিক থেকে দুহাতে টেনে লেফাফার মতো খুলে ফেলতে হবে

    ৬ – প্রথমে দুদিকের খোসা একে একে ওপরের ঠোঁট ও নীচের দাঁতের সাহায্যে টেনে, তারপর আঁটিটি চুষে চুষে অবশিষ্ট সবটুকু শাঁস আত্মসাৎ করতে হবে

    ৭ – হাতের কনুই পর্যন্ত গড়িয়ে নামা আমের অম্ল মিষ্ট ধারা, ত্বকের স্বেদলবণ মিশ্রিত, নীচে থেকে ওপর দিকে জিভ দিয়ে চেটে নিতে হবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়
    Next Article জীবন স্রোতের আঁকেবাঁকে – অর্পিতা সরকার
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Our Picks

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }