Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    পরিমল ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প984 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – ১০.২

    ১০.২

    ফাল্গুনের শুরুতে একদিন ভরদুপুরে সরোজা শুনলেন সদর দরজার বাইরে অনেকক্ষণ ধরে কে যেন ডেকে চলেছে–

    ‘খুকি! ও খুকি! বাড়ি আছিস?’

    খুব পরিচিত কোনো বৃদ্ধের গলা। বেরিয়ে এসে দরজা খুলতে দেখেন মনুখুড়োমশাই। রাধানগরে বাপের বাড়ির লোক, বাবার দুরসম্পর্কের জ্ঞাতিভাই। বহুকাল তাঁর দেখাসাক্ষাৎ নেই, কিন্তু ছোটোবেলায় মনুখুড়োকে ঠিক যেমনটি দেখেছিলেন সরোজা, একটুও বয়স বাড়েনি দেখে একটু অবাকই হলেন। অকৃতদার মানুষটি চিরকাল যজমানি করেছেন, বছরের সাত-আটমাস দূরে গ্রামেগঞ্জে শিষ্যদের বাড়ি ঘুরে ঘুরেই কাটাতেন। এদিনও তাঁর পরনে খেঁটো ধুতি, গায়ে নামাবলি, মাথায় ভিজে গামছা ভাঁজ করে রাখা, পায়ে খড়ম।

    ‘একি খুড়োমশাই যে? সরোজা গলায় আঁচল জড়িয়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করলেন।— ‘আপনি খুকি খুকি বলে কাকে ডাকছেন?’

    ‘তোকেই ডাকছি রে মা!’

    ‘তা আপনি খুকি বলে ডাকছেন কেন? আমি কি আর খুকি আছি?’

    ‘বটেই তো, বটেই তো!’ মনুখুড়ো অসহায় হাসেন। ‘আসলে আমি তোর নামটাই ভুলে গিয়েছি রে!’

    সরোজা আপ্যায়ন করে ওঁকে বাড়ির ভেতরে নিয়ে আসে। কিন্তু শত অনুনয়েও মনুখুড়ো কিছুতেই ঘরের ভেতরে ঢুকবেন না; পরিবারের মেয়ের শ্বশুরবাড়ি বলে কথা। ওষধিবাগানে নাগকেশরের নীচে বেদিতে বসে বলেন—

    ‘এই তো বেশ ভালো, কেমন সুন্দর ঠান্ডা জায়গাটা।’

    কাঁধে উড়নির ঝোলা থেকে একটি বিচিত্র প্যাগোডার আকারে হলদে রঙের স্ফটিক বের করে সরোজার হাতে দেন।

    ‘তোর ছেলেমেয়েদের হাতে দিস, খেলা করবে। এবার আর কিছু আনতে পারিনি রে।’

    সরোজা উপহারটি হাতে নিয়ে বলেন,— ‘তা বেশ। কিন্তু খুড়োমশাই, এসব নিয়ে খেলা করার মতো বয়স কী আর ওদের আছে? বড়ো ছেলে আর মেয়ে বিয়ে-ধা করে সংসারী হয়েছে। ছেলের দুটি, মেয়ের একটি সন্তানও আছে।’

    ‘বটেই তো, বটেই তো!’ মনুখুড়ো বাগানের গাছপালার দিকে তাকিয়ে কেমন যেন উদাস হয়ে পড়েন, বলেন—‘এরপর যখন আসবো তোদের এই বাগানের জন্যে গাছগাছড়া নিয়ে আসব।’

    সরোজা বালতিতে জল এনে ওঁর হাটু পর্যন্ত পুরু ধুলো ধুইয়ে গামছা দিয়ে ভালো করে মুছিয়ে দেয়, ফাটা-চটা পায়ের পাতায় সরষের তেল মালিশ করে দিতে দিতে রাধানগরের কথা জিজ্ঞেস করে। মনুখুড়ো যেসব সংবাদ দিতে থাকেন, দেখা যায় সেসবই সরোজার জানা। যেসব মানুষদের সাম্প্রতিক খবরাখবর বলতে থাকেন তারা কবেই মরে হেজে গিয়েছে। হয়তো বয়সের সঙ্গে স্মৃতি ক্ষয়ে গিয়েছে মনুখুড়োর সরোজা ভাবে যদিও চেহারা তিরিশ বছর আগে যেমনটি দেখেছিল ঠিক তেমনই আছে। কিংবা হয়তো রোদের মধ্যে পায়ে হেঁটে এতটা পথ এসে মতিভ্রম হচ্ছে। আহা রে! সরোজা ওঁর জন্য ফলারের ব্যবস্থা করে রেকাবিতে ফল মিষ্টি আর ডাবের জল এনে দেখে নাগকেশরের বেদির ওপর সুতোয় বোনা আসন আর হাতপাখাটি পড়ে আছে, মনুখুড়ো নেই। আসনের পাশে পড়ে আছে ওই অদ্ভুত শঙ্কু আকৃতির স্ফটিকটা।

    এদিক-ওদিক লোক পাঠিয়েও বৃদ্ধের কোনোরকম খোঁজ পাওয়া যায় না, যেন দুপুরের তাপবাস্পে মিলিয়ে গিয়েছেন। হেমন্ত স্ফটিকটি নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করে জানালো

    ‘এ কোনো প্রাকৃতিক স্ফটিক, এই সুষম আকার মানুষের হাতে তৈরি নয়। কোনো অচেনা পাথর কিংবা ধাতুর যৌগ, এমনকি হয়তো উল্কাও হতে পারে।’

    ক্রিস্টাল সেটের গ্যালেনাখন্ড বের করে স্ফটিকটি বসিয়ে তামার সুচ ছুঁইয়ে কোনো চেনা বেতার তরঙ্গের আভাস পাওয়া যায় না; অতল মহাশূন্যের মতো একটা নৈঃশব্দ্য, আর তার ভেতর দিয়ে খুব ক্ষীণ একটা টিপটিপ-টিপটিপ শব্দ। সেটা তার নিজেরই শিরায় রক্তসঞ্চালনের শব্দ নাকি কোনো রহস্যময় বেতার স্পন্দন, পরীক্ষা করার আর সুযোগ পেল না হেমন্ত। পরদিন সকালে সরোজা গঙ্গাস্নান থেকে ফিরে ভিজে কাপড়ে সোজা দক্ষিণের ঘরে ঢুকে স্ফটিকটি নিয়ে বাড়ির পেছনে শিয়ালকাঁটায় ভরা গর্তের ভেতর ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে এলেন।

    ‘এ কী কাণ্ড!’ হেমন্ত হাঁ হাঁ করে উঠল। ‘স্ফটিকটা ফেলে দিলে? কেন?’

    সরোজা কোনো উত্তর দিলেন না, কোনো কথাই বললেন না। চোখে বিহ্বল দৃষ্টি, তাতে আতঙ্কের ছিটে।

    সন্ধ্যার পর জানা গেল, স্নানে গিয়ে সরোজা ডুব দিয়ে রাধানগরে সেই দাইবুড়ির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেন। ইতিমধ্যে দাইবুড়ির শ্রবণশক্তি ক্ষীণ হয়েছে, বার বার একই প্রশ্ন করে কথায় কথায় জানতে পারেন মনুখুড়ো সেই কবেই মারা গিয়েছেন। সরোজাদের শরিকী বাড়ির ধ্বংসস্তূপে বাস করতেন যে দূর সম্পর্কের বুড়ি পিসিমা, ছেঁড়া শাড়ি দিয়ে কাঁথা সেলাই করে জীবন নির্বাহ করতেন, তিনিও মারা গিয়েছেন। একশো বছর আগে যে ম্যালেরিয়া এসে রাধানগর উজাড় করেছিল, তার ধিকিধিকি রেশ নিয়েছে শেষ ভিটে-আঁকড়ে-থাকা মানুষগুলোকেও। সরোজা র বুড়িপিসিমার কাঁথা নেবার লোক আর পড়ে নেই। দাইবুড়ির জড়িবুটি নেবার লোকও নেই। আর প্রসব তো সেই কোনকালেই শেষ হয়েছে।

    এককালে রাধানগর ছিল সমৃদ্ধ নগরী, বংশপরম্পরায় সরোজার পরিবারের পুরুষেরা ছিলেন স্থানীয় রাজার পুরোহিত। দুশো বছরেরও বেশি আগে যখন বর্গি হানা শুরু হয়, রাধানগরের রাজার পাইক বরকন্দাজরা তাদের রুখে দিয়েছিল। সেই কারণে নানান পেশার মানুষ রাধানগরে এসে বাস করতে শুরু করে। কিন্তু দাক্ষিণাত্যের দুর্দম ঘোড়সওয়ারেরা যা পারেনি, তাই করে দেখালো ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবেরা। এক বন্যার পর ভাগীরথী খাত বদল করল, রাধানগরের তিন দিকে ছেয়ে এল ছাড়িগঙ্গার বদ্ধ জলা। তার কিছুকালের মধ্যেই রেলপথ তৈরি হয়ে চারপাশের কৃষিজমির প্রাকৃতিক নাব্যতা ধ্বংস হলো, ম্যালেরিয়ার জীবাণুবাহী মশায় ঘরকে-ঘর উজাড় হতে লাগল। বড়ো বড়ো প্রাসাদোপম বাড়িগুলো নির্জন পোড়ো হয়ে ঐতিহাসিক সাতগাঁর ধ্বংসস্তূপের আদল পেল। সেই কারণে বিয়ে হয়ে আদিরামবাটিতে আসার পর সরোজার মনে হয়েছিল বুঝি কোনো আধোচেনা স্বপ্নের শহরে এসেছেন। যখন শিউলি পেটে এল, ততদিনে পরিবারে নিকটাত্মীয় কেউ আর বেঁচে নেই।

    মনুখুড়োর প্রেতাত্মা আসার এগারো দিন পরে সরোজা স্নানের ঘাট থেকে বাড়ি ফিরে কাপড় না বদলে সোজা চেম্বারে গিয়ে ঢুকলেন। রামপ্রাণ রোগী দেখছিলেন, বারান্দায় অপেক্ষমাণ লোকজন। স্ত্রীকে ওই অবস্থায় দেখে ভূত দেখার মতো চমকে উঠলেন। এত বছরে সরোজা শেষ কবে ফার্মেসিবাড়িতে পা রেখেছেন মনে পড়ে না, আর এইভাবে আসার তো প্রশ্নই ওঠে না। বিস্ময়ের ধাক্কা সামলে রামপ্রাণ চেম্বারে রোগীটিকে বাইরে যেতে বলে জিজ্ঞেস করলেন—

    ‘কী হলো? তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেল?’

    ‘এখনও হয়নি, হবে!’ সরোজা বললেন। ‘কিন্তু তার আগে তোমায় একটা কাজ করতে হবে গো। রথীনকে আজ এক্ষুণি চিঠি লেখ, ও যেন আমার মেয়েকে কলকাতায় এনে বড়ো ডাক্তার দেখায়।’

    স্ত্রীকে এমন বিধ্বস্ত অবস্থায় আগে কখনো দেখেননি রামপ্রাণ। চোখের দৃষ্টি লালচে ঝাপসা, দাঁতে কামড়ে ধরা নীচের ঠোঁট তিরতির করে কাঁপছে, ভিজে চুল থেকে জল চিবুক বেয়ে নামছে। তাতে চোখের জল মিশছে কি না বোঝার উপায় নেই।

    ‘তুমি ঘরে যাও, আমি আসছি,’ বলে রামপ্রাণ রোগী দেখা ফেলে ফার্মেসি থেকে দুটি সাইলেসিয়া ১০০-এর পুরিয়া বানিয়ে নিয়ে ভেতর বাড়িতে গিয়ে দেখেন সরোজা ভিজে শাড়িতে রোয়াকে দু পা ছড়িয়ে বসে নিষ্পলক চেয়ে আছেন কুয়োর ওপর কপিকলের দিকে। রামপ্রাণ চিঠি লেখার আশ্বাস দিতে শাড়ি বদলাতে গেলেন। কিন্তু সেদিন বিকেলের ডাকে পাঠানো সেই চিঠি মালদায় রথীনের হাতে আর পৌঁছল না। তার কারণ সেদিন রাতের ট্রেনেই সে শিউলি আর বাপ্পাকে নিয়ে কলকাতায় রওনা দিয়েছে।

    .

    ইতিমধ্যে শিউলিরা মালদায় গিয়ে থাকতে শুরু করেছে, মালদা টাউন স্কুলে ভর্তি হয়েছে বাপ্পা। অফিস বাংলো মেরামত হচ্ছে বলে কিছুদিন সরকারি ভাড়া নেওয়া একটি বাসায় ওদের থাকার ব্যবস্থা হয়। বিশাল বাগানঘেরা আদ্যিকেলে বাড়িটা কোনো কালে নীলকর সাহেবের বাংলো ছিল। দোতলায় বৃদ্ধ অ্যাংলো ইন্ডিয়ান মালিক ততোধিক বুদ্ধ একটি জার্মান শেফার্ড কুকুর নিয়ে সম্পূর্ণ একা থাকেন। রাতে কুকুরটি গলায় শিকল বাঁধা অবস্থায় দোতলায় ছাড়া থাকে। সারারাত সে শেকল টেনে টেনে ফাঁকা ঘরগুলোয় ঘুরে বেড়ায়, মেঝের ওপর শেকলের ঘষটানির শব্দ শোনা যায়। সেই শব্দের সঙ্গে বাথরুমের থেকে শিউলির চাপা ওয়াক তোলার শব্দ মেশে। বাপ্পার ঘুম ভেঙে যায়, আর ঘুম আসে না। টের পায় মা জেগে আছে। অন্ধকারে মায়ের চোখদুটো খোলা, মাঝে মাঝে লম্বা শ্বাস নিচ্ছে।

    এই বাড়ির বাথরুমটা বিশাল, তার এক পাশে পোর্সেলিনের বড়ো বাথটাব। শিউলির পেটের ভেতর প্রদাহ যখন বেড়ে ওঠে, মাঝে মাঝে বাথটাবে জল ভর্তি করে সারা দুপুর সেখানে আধশোয়া হয়ে থাকে সে। রামপ্রাণের পাঠানো ওষুধেও জ্বালা প্রশমন হয় না, জেলা হাসপাতালের সরকারি ডাক্তার দেখানো হয়। এরই মধ্যে একদিন বমির সঙ্গে তাজা রক্ত উঠে এল। পরদিনই রথীন বিকেলের ট্রেনে শিউলি আর বাপ্পাকে নিয়ে কলকাতায় চলে এল।

    *

    এক অস্থির বিহ্বলতার ভেতর দিন কাটে বাপ্পার। ঠিক কী যে ঘটছে সে বুঝতে পারে না, পুরো ছবিটা দেখতে পায় না। চিনিকাকাকে কেন্দ্র করে সেই চাপা ঝগড়ার পর আর কোনোদিন বাবা-মায়ের মধ্যে কোনোরকম মনান্তরের আভাস পায়নি। কিন্তু কোনো কারণে বাবা যে খুব চিন্তিত, এবং অফিসের কারণে ঠিক নয়, সেটা আন্দাজ করতে পারছিল। রথীনের সিগারেট খাওয়া অত্যধিক বেড়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে শিউলির নানা রকমের পরীক্ষা হচ্ছে, একদিন নার্সিং হোমেও রাত কাটাতে হলো। বাপ্পাকে ওদের দমদমের বাসায় নিয়ে গিয়ে রাখল খোকাজেঠু আর মোমবুচান।

    পরদিন কলুটোলা লেনে ফিরে বাপ্পা দেখে বেরিয়াম এক্স-রে প্লেটে মায়ের পৌষ্টিক তন্ত্রের ছবি। মনে পড়ল হেমন্তমামার ডার্করুমে দড়িতে টাঙানো মুখের নেগেটিভগুলো। গভীর বলিরেখার ছায়াগুলো নেগেটিভে যেমন আলো হয়ে ফুটে উঠে থাকে, ঠিক তেমনই এক্স-রে প্লেটে রুপোলি আলো হয়ে ফুটেছে খাদ্যনালির ভেতর দিয়ে বেরিয়ামের পথ। নতুন ইস্কুলে জীবনবিজ্ঞানের বইতে ব্যাঙের পৌষ্টিক তন্ত্রের ছবি আছে। মানুষের পৌষ্টিক তন্ত্রের সঙ্গে তার খুব একটা তফাৎ আছে কি? ব্যাঙ তো উভচর প্রাণী, দীর্ঘ দুপুর বাথটবের ভেতর দেহ ডুবিয়ে থাকতে থাকতে মাও কি উভচর প্রাণী হয়ে উঠতে পারে? বাপ্পা ভাবার চেষ্টা করে। বেরিয়াম এক্স-রে প্লেটে যাত্রাপথের ছবিটা ভূগোল বইয়ে আঁকা নদীর মানচিত্রও হতে পারত। একদিন বাবার সঙ্গে ট্রামে চেপে কলেজ স্ট্রিটে নতুন ইস্কুলের বই কিনতে গিয়ে দোকানের দেয়ালে মানুষের পৌষ্টিক তন্ত্রের ছবি দেখল সে। সরকারি ইস্কুলের দেওয়া তালিকা মিলিয়ে দু-তিনটি দোকানে ঘুরে ঘুরে বই কেনার পর রথীন ওকে নিয়ে গেল ইন্ডিয়ান কফি হাউসে। বিশাল প্রেক্ষাগৃহের মতো ঘর, অসংখ্য ছোটো ছোটো টেবিল ঘিরে বসে বিভিন্ন বয়সের পুরুষ, সকলেই পুরুষ। তারা একযোগে কথা বলছে, ধূমপান করছে। অতগুলো মানুষের কন্ঠস্বরে ঘরটা ভোঁ ভোঁ করছে ভীমরুলের চাকের মতো, উঁচু সিলিঙে জমছে নীলচে ধোঁয়ার মেঘ। মাথায় টুপি সাদা উর্দি আঁটা ওয়েটার এসে কফি দিয়ে গেল– বাপ্পার জন্য ফেনায়িত ঠান্ডা কফি আর রথীনের জন্য কালো ইনফিউশান।

    পিতাপুত্র, দুই পুরুষ, অনেক পুরুষের মাঝে বসে কফি খায়। রথীন সিগারেট ধরায়। সিগারেটের ধোঁয়ার গন্ধ, কফির গন্ধের ভেতর থেকে বাপ্পা বাবার সেই চিরচেনা ওল্ড স্পাইস আফটার শেভ লোশনের গন্ধটাও খুঁজে পায়। মনে হয় যেন ওরা দুজনে ওল্ড স্পাইসের বোতলে আঁকা পালতোলা জাহাজে চেপে পাড়ি দিয়েছে। অচেনা বিক্ষুব্ধ সমুদ্র, তার ওপরে কেবল ওরা দুজন। আর কেউ কোথাও নেই। চারদিকে কেবল জল, নিঃসীম কালো জল। অচেনা দেশের হাতছানি।

    কিছুক্ষণ আগেই রথীন ছেলেকে কলেজ স্ট্রিটের আশেপাশে রাস্তাগুলো আর বিখ্যাত বাড়িগুলো চিনিয়েছে। প্রেসিডেন্সি কলেজ গৌহাটি থেকে আসার পর যেখানে সে পড়তে পারেনি, কিন্তু বড়ো হয়ে বাপ্পা নিশ্চয়ই পড়বে। তার পাশেই হেয়ার স্কুল, উলটোদিকে হিন্দু স্কুল। সেখানে বাপ্পাকে ভর্তি করার প্রস্তুতি চলছে।

    কলকাতায় আর দিন কয়েকের মধ্যেই বদলি হয়ে চলে আসবে রথীন, উদ্বাস্ত পুনর্বাসন বিভাগে অফিসার-অন-স্পেশাল-ডিউটি পদে।

    দেশভাগের পরে-পরেই তৈরি হয়েছিল এই বিশেষ বিভাগটি। তারপর কেটে গিয়েছে দুই দশকেরও বেশি সময়। কিন্তু সেই বিভাগের কাজ এখনও শেষ হয়নি। কারণ এই রাজ্যে দেশভাগ কোনো ঘটনা নয়, মি’লেডি, একটি জায়মান পরিস্থিতি।

    সীমান্ত লাগোয়া বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনের নানান স্তরে কাজ করার সুবাদে রথীনের থেকে অভিজ্ঞ অফিসার খুব কমই আছে। ফলে শিউলির রোগ ধরা পড়ার পর চিকিৎসা চলাকালীন কলকাতায় বদলির জন্য আবেদন করলে সেটা মঞ্জুর হতে সময় লাগেনি।

    কফি হাউসে জানলার দিকে একটি টেবিলে বসেছে ওরা। রাস্তার ওধারে সংস্কৃত কলেজ, নীচে ফুটপাত ধরে সারি সারি নতুন পুরোনো বইয়ের দোকান পার হলে বাঁদিকে গোলদিঘি, ডান দিকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উঁচু বাড়িটা।

    ‘এখান থেকে আমাদের বাসা কিন্তু খুব বেশি দূর নয়।’ কফির কাপে চুমুক দিয়ে রথীন বলে। ‘মনে কর তুই যদি হারিয়ে যাস, এখান থেকে বাড়ি চিনে ফিরে যেতে পারবি?’

    বাপ্পা ঘাড় নাড়ে। ‘হ্যাঁ। এগারো নম্বর ট্রামে উঠে পড়ব, যে ট্রামগুলোর গায়ে শ্যামবাজার লেখা।’

    ‘আর যদি ট্রামে চড়ার পয়সা না থাকে? পায়ে হেঁটে রাস্তা চিনে যেতে পারবি না?’

    বাপ্পা পথের মানচিত্রটা কল্পনা করার চেষ্টা করে।

    ‘কীভাবে কোন পথ দিয়ে বাড়ি যাবি সেটা আমায় বল দেখি?’

    ‘এখান থেকে নেমে কলেজ স্ট্রিট ধরে ওই দিকে যাব…’ বাপ্পা হাত তুলে দেখায়।

    ‘এইদিক ওইদিক বললে হবে না, স্পষ্ট করে বুঝিয়ে বল,’ রথীন বলে। ‘মনে কর আমি এই শহরের পথঘাট কিছু চিনি না, আমাকে বোঝাচ্ছিস।’

    ‘ওই তো, প্রেসিডেন্সি কলেজটার পাশ দিয়ে …— ‘— ‘প্রেসিডেন্সি কলেজটা তোর কোন দিকে থাকবে?’

    ‘ডান দিকে, বাপ্পা ইতস্তত করে। ‘ না না, বাঁদিকে…’

    ‘তারপর?’

    ‘তারপর হ্যারিসন রোডে পৌঁছে ডান দিকে, যেদিকে শিয়ালদার ট্রামগুলো যায়…’

    এইভাবে ক্রমশ পথের নাম, পথের দুপাশে বাড়িগুলোর নাম, দোকানের নাম, খুব ছোটোবেলায় ভোরবেলা মায়ের সঙ্গে ট্রামে চেপে শাকম্ভরী দেবীর অন্তর্জলী যাত্রায় যাবার সময় যে বন্ধ দোকানের ওপর সাইনবোর্ডে আঁকা ছবিগুলো দেখে মনে রাখত বাপ্পা, এখন যে লেখাগুলো সে পড়তে পারে–মহেন্দ্ৰ দত্ত অ্যান্ড কোং, দিলখুশা কেবিন, স্বাধীন ভারত স্টেশনার্স, ইম্পিরিয়াল ওয়াচ কোম্পানি, সীতারাম মঞ্জিল, স্ট্যান্ডার্ড বোর্ডিং হাউস… একের পর এক দোকানের নাম, বাড়ির নাম, রাস্তার নাম, গলির নাম আওড়াতে আওড়াতে এক বিচিত্র খেলায় মেতে ওঠে পিতাপুত্র।

    মি’লেডি, অনেক কাল পরে স্মার্ট ফোন আর গুগল ম্যাপের যুগে বাপ্পাদিত্যর বিশেষ ভাবে মনে পড়বে সেই দিনটার কথা। জানলার বাইরে বিকেলের রোদ সংস্কৃত কলেজের সাদা চুনকাম করা বাড়িটা থেকে পিছলে কফিহাউসের ভেতরে একটা অদ্ভুত প্রভা এসে পড়েছে। রথীনের মাথার পেছনে সেই প্রভা, চশমাটা চিকচিক করছে, চোখদুটো দেখা যায় না। ভীমরুলের গুঞ্জনের মতো সমবেত কন্ঠস্বরের ধ্বনিটা কান-সওয়া হয়ে গিয়েছে ততক্ষণে। টেবিলের উলটোদিকে বসে রথীন অনুচ্চ স্বরে কথা বললেও প্রত্যেকটি শ্বাসঘাত স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে বাপ্পা। গুঞ্জনটা এক অদ্ভুত অন্তরঙ্গতার পর্দা সৃষ্টি করেছে যেন। এক বিচিত্র গোপনীয়তা, যা দুজনে নির্জন ঘরে বসে কখনোই সম্ভব নয়। চারিপাশে টেবিলে অসংখ্য অচেনা পুরুষের মাঝে ওরা দুজন, শুধু ওরা দুজন, বাবা আর ছেলে।

    ‘আমি যখন গৌহাটি থেকে প্রথম এলাম, তোর এখন যা বয়স তার থেকে কত আর, বছর দশেকের বড়ো ছিলাম। একা একা এই শহরের পথঘাট চিনতে শিখেছিলাম। ধরা যাক এমন তো হতেই পারে, তোকেও একা একা এই শহরে থাকতে হলো। পারবি না?’

    বাপ্পা ঘাড় নাড়ে, রথীনের কথার ভেতরে লুকিয়ে থাকা কথা বুঝতে চেষ্টা করে। রবিবারের আড্ডায় শোনা বাবার সেই প্রথম কলকাতায় আসার দিনগুলো সম্পর্কে কাকু পিসিদের টুকরো মন্তব্য থেকে একটা ছবি তৈরি করতে চেষ্টা করে: একাকী পুরুষ ও মহানগর।

    ‘কিন্তু আমি একা কেন থাকব বাবা? তোমরা তো থাকবে?’ বাপ্পা বলে।

    ‘ধর এমন তো হতেই পারে আমি নেই? হতে পারে না?’

    ‘তাহলে মা তো থাকবে?’

    ‘এমনও তো হতেই পারে মা নেই।’

    ‘হতেই পারে?’ বাপ্পা ব্যাকুল কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে। আচমকা মনে হয় ঘরে একফোটাও বাতাস নেই, চারপাশের গুঞ্জন জাদুবলে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

    ‘হ্যাঁ, হতে পারে। খুবই হতে পারে।’ রথীন থেমে থেমে বলে। বাপ্পা বাবার চোখ দেখতে পায় না, মাথার পেছনে জানলার আলোকিত ফ্রেমে বাবার সিল্যুয়েট। চশমার ভেতর দিয়ে আলোক রশ্মির প্রতিসরণ হচ্ছে। ‘মা আমাদের মধ্যে খুব বেশিদিন আর নাও থাকতে পারে। তোমাকে তাড়াতাড়ি বড়ো হয়ে উঠতে হবে।

    সেদিন বাপ্পাকে— ‘তুমি’ করে সম্বোধন করল রথীন। সেদিনই বাপ্পা জানল মায়ের অগ্ন্যাশয়ে ক্যানসার ধরা পড়েছে। চিকিৎসা কঠিন এবং কষ্টকর। এবং আরোগ্যের সম্ভাবনা কম। কফি হাউসের সেই কোল্ড কফির স্বাদে জড়িয়ে গেল এক হিম আতঙ্ক আর বিষাদ, যা রয়ে যাবে সারাটা জীবন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Our Picks

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }