Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    পরিমল ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প984 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – ৯.১

    ৯.১

    ফুটন্ত দুধের কড়ায় নীল শিশির তরল ঢেলে ঐশ্বরিক মিরাকল দেখালেন পাদরিবাবা, অন্তিমকালের প্রলয়ের ঘূর্ণিপাকে শ্বেতশুভ্র পুণ্যাত্মার মতো থকথকে যে বস্তু উঠে এল গোবর্ধন সেটি ফেলে দেয়নি। ছোটো ছোটো গোলা পাকিয়ে এলাচ মেশানো ঘন মিষ্টি দুধে ঢিমে ঘুঁটের আঁচে ফুটিয়ে বটপাতার দোনায় পরিবেশন করেছে তার দোকানের খদ্দেরদের।

    ‘হ্যালেলুইয়া, গোবর্ধন!’ গোলায় কামড় দিয়ে বলে উঠেছে হান্স অ্যান্টনি।

    ‘হ্যালেলুইয়া! হ্যালেলুইয়া! ব্রাভো! ব্রাভো!’ সমস্বরে বলেছে ফিরিঙ্গি আফিমখোরেরা।

    এ এক অনাস্বাদিতপূর্ব সুখাদ্য, যা নেশাতুর চোয়াল নাড়িয়ে চিবানো যায়। সিদ্ধিবাটা মেশানো ক্ষীরের নাড়ুর মতো চিটচিট করে না, দাঁতে জড়ায় না। পেটে গিয়েও ভার সৃষ্টি করে না। সাহেবদের কাছে সাবাশি পেয়ে গোবর্ধন বস্তুটিকে আরও উত্তমভাবে প্রস্তুত করতে চেষ্টা করে।

    পাদরিবাবা যে নীল শিশির তরল দিয়ে গিয়েছিলেন সেটি ওয়াইন ভিনিগার। ফুটন্ত দুধে কয়েক ফোঁটা ফেললে চোখের পলকে দুধ ছিন্ন হয় ঠিকই, কিন্তু সেই ছিন্ন দুধের গোলায় একটা গুমসানো গন্ধ থেকে যায়। গোবর্ধন ভিনিগারের বদলে গোঁড়া লেবুর রস ব্যবহার করতে লাগল। তার কার্যকারিতা একই, উপরন্তু হালকা তাজা লেবুর সুগন্ধ মেশে। কোনো কোনো নেশাড়ুর অবশ্য তাতে আৰুলি বিঘ্নিত হয়। ক্রমশ তার থেকেও উন্নত, কোনোরকম গন্ধবিহীন গোলা গোবর্ধন তৈরি করতে লাগল ছিন্ন দুধের অবশিষ্ট জল ব্যবহার করে।

    আবিষ্কারের নেশায় পেয়ে বসল গোবর্ধনকে। বালুসাইয়ের মধ্যে তালক্ষীর ভরে এক নতুন মিঠাই উদ্ভাবন করেছিলেন তার এক মামা, কটকে বিখ্যাত হয়েছে এই নতুন মিঠাই তালুসাই। কিন্তু এ যেন আরও ঢের অভিনব। শুধুমাত্র দুধকে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে এমন সুস্বাদু ও অভিনব খাদ্য সৃষ্টি করা যায় কেই-বা জানত?

    দুধ, আর চিনি। এতকাল ধরে যে চিনি ময়রারা ব্যবহার করে এসেছে, আখের রস জ্বাল দিয়ে শ্যাওলার মধ্যে দিয়ে তাকে পরিশ্রুত করায় সেই চিনিতে নানারকম জৈব পদার্থ মিশে থাকে, তার রঙও হয় লাল। কিছুকাল হলো দুফে নামে এক ফরাসি সাহেব হুগলি খালের ধারে নতুন চিনির কল বানিয়েছে। সেখানে লোফের আকারে ধবধবে সাদা চিনি তৈরি হয়। সেই চিনি ফুটন্ত জলে ফেললে যে রস তৈরি হয়ে ওঠে সেটি আশ্চর্য স্বছ, প্রায় কাকচক্ষুর মতো।

    একদিন— ‘জয় জগন্নাথ! জয় ধম্মোঠাকুর!’ বলে সেই ফুটন্ত রসে ছিন্ন দুধের গোলা পাকিয়ে ফেলে দিল গোবর্ধন।

    এবং, মি’লেডি, বাকিটা ইতিহাস। গোলাগুলি তো খুলে এলই না— যা গোবর্ধন আশঙ্কা করেছিল— উলটে বরং আরও সুগোল আর শোলার মতো নরম ও স্থিতিস্থাপক হয়ে এল। সত্যিই যেন এক ঐশ্বরিক মির্যাকল ঘটে গেল, সৃষ্টি হলো নতুন মিঠাই – রসগোলা!

    গোবর্ধন ময়রার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল মৎস্যভূমি ছাড়িয়ে দূরদূরান্তরে, ভক্ত নেশাড়ু দিশি ফিরিঙ্গি নির্বিশেষে ধর্মতলায় আসতে লাগল এই দেবভোগ্য উদ্ভাবনের আস্বাদ নিতে।

    যথারীতি সুখ্যাতিকে অনুসরণ করে এল কুখ্যাতিও। রাখালদাস ন্যায়চূড়ামণি গত হবার পর সাতগাঁর পাশ্চাত্য বৈদিক সমাজের মাথা হয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন ঘনশ্যাম ন্যায়চঞ্চু; চন্ডীমন্ডপে তাঁর হেঁতালের লাঠিটি ঠুকে তিনি ঘোষণা করলেন-

    ‘এই রসগোলা শুধু যে অস্পৃশ্য স্থানে ম্লেচ্ছদের পৌরোহিত্যে বানানো হচ্ছে তাই তো নয়, গোমাতা ভগবতীর অম্লান সৃষ্টি যে দুগ্ধ, তাকে অম্লের দ্বারা ছিন্ন করা ঘোর অশাস্ত্রীয় কাজ। সাতগাঁর কোনো মন্দিরে কখনো যেন দেবতার ভোগে মিষ্টান্ন হিসেবে নিবেদন না হয় এই রসগোলা!’

    সমাজে কুলপতির পদে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আদিরামবাটির রামানুজ বলে উঠল— ‘আপনি বোধহয় পুরোটা অবগত নন, ন্যায়চঞ্চুমশাই! এই রসগোলায় ব্যবহার হয় যে চিনি, তা কিন্তু কাশীর চিনি নয়। আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি। ফিরিঙ্গি সাহেবের কলের চিনি পশুর হাড়ের পোড়া ছাই দিয়ে পরিশ্রুত করা হয়।’

    চণ্ডীমন্ডপে শ্রোতাদের মাঝে ছিছিক্কার উঠল, ঘৃণায় শিহরিত হলেন কেউ কেউ।

    ‘হ্যাঁ!’ রামানুজ বলল। ‘তাই শুধু দেবস্থানেই নয়, এই ঘৃণ্য বস্তুটি জিভে ছোঁয়ানোও পাপ!’

    সাতগাঁর পাশ্চাত্য বৈদিক সমাজে নিষিদ্ধ খাদ্যবস্তুর তালিকায় উঠল রসগোলা। কিন্তু তাতে করে কি আর তরুণ রসনাকে বেঁধে রাখা যায়? গোপনে ধর্মতলার গোবর্ধন ময়রার পৃষ্ঠপোষক হয়ে উঠল ব্রাহ্মণপাড়ার উঠতি ছেলেছোকরারা, তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য রামানুজের কনিষ্ঠ ভ্রাতা পাগলরাম।

    ধবধবে সাদা মাকরানার মার্বেলগুলির মতো হালকা ও সহজপাচ্য রসগোলার চাহিদা উত্তরোত্তর বেড়েই চলল। প্রতিদিন ছাড়িগঙ্গার ধারের গ্রাম থেকে নৌকায় ঘড়া ঘড়া দুধ আসে, পাহাড়প্রমাণ জ্বালানি কাঠ আসে হুগলির উজানে বন থেকে।

    একদিন সেই জ্বালানি কাঠের নৌকায় চেপে গোবর্ধন ময়রার রসগোলা খ্যাতির টানে চলে এল বছর তের-চোদ্দর একটি ফুটফুটে ছেলে। তার নাম ননীগোপাল ঘোষ, ত্রিবেণীর উত্তরে গুপ্তিপাড়া গ্রামে বাড়ি। ননী রসগোলা খেতে চায়, এদিকে ট্যাকে ফুটো পয়সাও নেই।

    ‘আমি তো আর দানছত্তর খুলে বসিনি, ঘোষের পো!’ গোবর্ধন বলে। ‘দুধ কাঠ চিনি সবই নগদ টাকা ফেলে কিনতে হয়। ফ্যালো কড়ি মাখো তেল!’

    শেষকালে ছটি রসগোলার বিনিময়ে এক পাঁজা কাঠ চ্যালা করে দিল ননী। জানা গেল, গোবর্ধনের মতোই সেও হালুইকরের ঘরের ছেলে, বাড়ি থেকে পালিয়ে ভাগ্যের সন্ধানে বেরিয়েছে। তিন বেলার খোরাকি আর সামান্য হাতখরচা দিয়ে ছেলেটাকে দোকানে রেখে দিল গোবর্ধন।

    শুধু কাঠ চ্যালা করতেই নয়, চুলো ধরাতে, এমনি ভিয়েনের কাজও একটু-আধটু জানে ননী। এখন বটতলার দোকানে গেলেই দেখা যায়, মস্ত চ্যাটালো কড়ায় ডাবু হাতা ঘুরিয়ে নিবিষ্ট মনে দুধ জ্বাল দিচ্ছে গোবর্ধন, ননী বাঁশের হাপরে ফুঁ দিয়ে উনুনে ঢিমে আঁচে মৃদু হাওয়া দিচ্ছে। কড়ার মাঝে ঘন হয়ে আসা দুধ বগবগ করে চৈতন্যধারার মতো, সরু বাখারির কাঠি দিয়ে পরতের পর পরত সর তুলে কড়ার গায়ে লেপে দিতে থাকে গোবর্ধন, তালপাতার পাখা দিয়ে দুধের ওপর বাতাস করে ননী।

    শুধু রসগোলাই তো নয়, গোবর্ধন ময়রার দোকানে ভাঙের গুলি শরবতেরও কদর আছে। দুপুর গড়ালে ফিরিঙ্গিডাঙার সাহেবরা আসতে শুরু করে নৌকায় পালকিতে। তাদের নেশার দ্রব্য প্রস্তুত করে গোবর্ধন, ননী মাটির লম্বা ভাঁড়ে ঢেলে নিয়ে গিয়ে পরিবেশন করে। গোবর্ধন যখন নিবিষ্ট মনে দুধ জ্বাল দেয় কিংবা ছানা চটকে গোল্লা পাকায়, তখন আনমনে গুনগুন করে সুর ভাঁজে। ননী সেই সুর তুলে নিয়ে তাতে এলোমেলো পাঁচালির লাইন বসিয়ে গেয়ে ওঠে। খদ্দেররা কেউ ওকে গালি দিলে সে সুর করে টিটকিরি দেয়, কখনো— ‘হ্যাট-ক্যাট-ম্যাট’ ফিরিঙ্গি বুলিও গুঁজে দেয় দুচারটে।

    বাবার হাতে চ্যালা কাঠের পিটুনি খেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসার পর মায়ের জন্য, ছোটো ভাইবোনেদের জন্য মন উচাটন হয়েছিল ননীর। কিন্তু গোবর্ধনের দোকানে এসে সে মজে গিয়েছে, যাব যাব করেও আর বাড়ি ফিরে যেতে পারেনি। প্রতিদিন কত ধরনের মানুষ যে এই বটতলায় আসে। ধর্মঠাকুরের থানে হত্যে দিতে আসা গরীবগুর্বো আতুর থেকে শুরু করে সন্ন্যাসী ফকির আর গোবর্ধনের দোকানের দাওয়ায় ফিরিঙ্গি আর বাবুদের দল, কত বিচিত্র তাদের চেহারা বেশভূষা বুলি, আউলে বাতুলদের গলায় কতরকমের গান এক নতুন অচেনা বৈচিত্র্যময় পৃথিবী, যার সম্পর্কে কোনো ধারণা গুপ্তিপাড়ার অজগ্রামে জীবনের চোদ্দটা বছর ননীর ছিল না।

    ‘এ আর কী দেখছিস!’ গোবর্ধন বলে। ‘দাড়া, জ্যৈষ্ঠ পুন্নিমেটা আসতে দে, তখন দেখবি!’

    একদিন কোয়ার্সভিলে গিয়ে চোখ ধাঁধিয়ে গেল ননীর। নদীর পাড় ধরে চওড়া শানবাঁধানো পথ, আম কাঠালের বাগানে ঘেরা সারি সারি ভিলা, তাদের দুধসাদা দেয়ালে পঙ্খের কাজ, লাল টালির চাল, গা বেয়ে অচেনা ফুলের গাছ লতিয়েছে, বিশাল গির্জা, ঘড়িঘর, ট্যাভার্ন, হুগলি নদীতে কতরকমের জাহাজ আর জলে মুখ থুবড়ে পড়া কেল্লার ধ্বংসাবশেষ।

    দোকানে ফিরে গোল গোল চোখ করে সে গোবর্ধনকাকাকে কী দেখেছে বলছে, খাটিয়ায় আধশোয়া অ্যান্টনি সাহেব কাঠের চিরুনি দিয়ে তার দাড়ি আঁচড়াতে আঁচড়াতে বলল-

    ‘কোয়ার্সভিল দেখেই এই? কলকাতায় গেলে তোর চোখ খুলে চড়ক গাছের মাথায় উঠে পড়বে রে ছোড়া!’

    ননী জানতে পারে, ভাটির দিকে কোয়ার্সভিলের থেকেও ঢের বড়ো আর আশ্চর্য শহর কলকাতা। সেখানে প্রহরে প্রহরে কেল্লায় তোপ দাগা হয়।

    ‘কেন? তোপ দাগা হয় কেন?’

    ‘যাতে ঘোড়া মানুষ সবাই সারাক্ষণ ছোটে, যাতে ঘুমিয়ে না পড়ে!’ অ্যান্টনি বলে।

    ‘ঘুমিয়ে পড়লে কী হবে?’

    ‘একবার ঘুমিয়ে পড়লে জেগে ওঠার পর শহরটা এত বদলে যাবে যে আর কিছু চিনতেই পারবে না!’

    গোবর্ধনের আশ্রয়ে ননীর দুবেলা ভাতের অভাব নেই, ভাতের পাতে সরবাটা ঘি আছে, পুজোপার্বণে ধর্মঠাকুরের থানে প্রসাদী ফলমূল অন্নসত্র আছে। সবচেয়ে বড়ো কথা, যে জিনিসটার কাঙাল হয়ে সে ঘর ছেড়েছে, গোবর্ধনের দিক থেকে ওর প্রতি স্নেহ আছে। হয়তো একটু বেশিই আছে। ননীর মধ্যে নাকি নিজের ছেড়ে আসা— ‘আমি’-টাকে দেখতে পায় গোবর্ধন। আর কী পায় কে জানে? রাত্রিবেলা ধোঁয়ায় মলিন অপরিসর দোকানে হাঁড়িকুড়ির একপাশে চাটাই কাথার বিছানায় পাশাপাশি শুয়ে তার বহিঃপ্রকাশ আধোঘুমের ভেতরে টের পায় ননী। গোবর্ধন ওকে আদর করে, সর্বাঙ্গে চুমু খায়, কখনো শঙ্খলাগা সাপের মতো ওকে জড়িয়ে পেঁচিয়ে ধরে, কখনো কখনো ওর নিজের রোমহীন স্তন ননীর মুখে গুঁজে দিয়ে ওর চুলে বিলি কাটতে কাটতে ঝিমধরা গলায় ওর নিজের দেশের ঘুমপাড়ানি গান গায়, কখনো এই ধর্মতলায় বটের গহীনে দেখা একদল ন্যাড়ামাথা নীল জোব্বা- পরা নারীপুরুষের অবাধ দেহমিলনের আচারের বর্ণনা দিতে দিতে ননীর কৈশোরের অগ্রচ্ছদা টেনে সরিয়ে ওর কোমল পৌরুষকে জাগাতে চায়, নিজের দুই উরুর কবোষ্ণ আর্দ্রতার ভেতরে তাকে সুরক্ষিত রাখতে চায়। বটের দেশে দুঃস্বপ্নে জেগে- ওঠা একাকী গাঙশালিখের ডাক আর উনুনে নিভন্ত আঁচে বিকীরিত রক্তলাল আলোর বিবমিষার ভেতর রোজ রাতে ননী মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে, আর নয়, এবার এখান থেকেও পালাবে সে। কিন্তু পরদিন সকাল থেকেই দোকানের চারপাশে এত কিছু অভূতপূর্ব ব্যাপার ঘটতে থাকে যে সেই প্রতিজ্ঞার কথা আর তার মনে থাকে না।

    বৈশাখ মাস শেষ হতে চলল, জ্যৈষ্ঠের গাজন পূর্ণিমা আর খুব বেশি দেরি নেই। এক বিকেলে অ্যান্টনি সাহেব কলকাতা থেকে নিয়ে এল এক বিচিত্র বস্তু। খড় আর গোলপাতায় জড়ানো সেই ভারি বস্তুটা নৌকার খোল থেকে তুলে দুজন মাঝি ধরাধরি করে এনে ফেলল গোবর্ধনের দোকানের দাওয়ায়। মোড়ক খুলতে বেরিয়ে এল এক বিশাল চৌকোনা নীলাভ স্ফটিক যার গা থেকে আলো ঠিকরোচ্ছে, হিমশীতল বাষ্প নির্গত হচ্ছে।

    ‘এ যে বরফ!’ গোবর্ধনের মুখ হাঁ হয়ে যায় চুলোর মতো। ‘এত বড়ো?’

    হান্স অ্যান্টনি কিছু বলে না, হাসে। ওর মুখের অভিব্যক্তি উপভোগ করে।

    চোখের পলকে ভিড় জমে যায় অতিকায় বরফের স্ফটিকটি ঘিরে।

    ‘কতদিন ধরে শিলাবৃষ্টির শিল জমিয়ে জমিয়ে তৈরি হয়েছে গো?’ গোবর্ধন জিজ্ঞেস করে।

    ‘এ নির্ঘাৎ হিমালয় পাহাড়ের মাথা থেকে খসে পড়েছে!’ এক পুণ্যার্থী বলে। ‘তারপর নদীতে ভাসিয়ে আনা হয়েছে এতদূর!’

    ‘মুখপোড়াদের কথা শোন!’ অ্যান্টনি সাহেব বলে। ‘এই বরফ জাহাজে কলকাতায় এসেছে সেই মার্কিন মুলুক থেকে।’

    ‘ফিরিঙ্গির ব্যাটা বলে কী গো!’ রসগোলার টানে আসা সাতগাঁর এক মাতবর টিপ্পনী কাটে। ‘মার্কিন মুলুকটা কি তবে ভেসে ভেসে সোনাগাজির মাগিহাটায় চলে এল?’

    ‘বটেই তো!’ গোবর্ধন বলে। ‘বরফ কি চিনেমাটি যে তাকে জাহাজে পুরে আনা যাবে? গলে যাবে যে!’

    ‘আজ সকাল থেকে কয় ছিলিম টেনেছ, ছায়েব?’ মাতবরটি বলে। তার স্যাঙাৎ যোগ করে–

    ‘সঙ্গে আর কী সরেস বস্তু পেঁদিয়েছ বল দি’নি? আমরাও এট্টু চেখে দেখি!’

    ‘ওরে ম্যাকমারা পাতকুয়ার ব্যাঙ!’ অ্যান্টনি এতক্ষণে গরগর করে ওঠে। ‘নিজের মুলো নিজের পোঙায় গুঁজে খুব যে দেখি পোঙিৎ হয়েচিস। এই বরফ আমেরিকা থেকে এয়েচে, এ যদি মিছে কথা হয় তো শ্যামা মায়ের দিব্যি কুঠ হয়ে আমার জিভ খসে যাক!’

    তিনদিন পরে কলকাতা থেকে আসা এক ইংরেজের মারফৎ জানা গেল, হাস অ্যান্টনি মিথ্যে বলেনি।

    মি’লেডি, ফ্রেডেরিক টিউডর নামে বস্টনের এক তরুণ ব্যবসায়ী নানান জিনিসের বিকিকিনির চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে এমন একটি জিনিসের ব্যবসার ফন্দি আঁটল যা তার বাসভূমির আশেপাশে অঢেল পরিমাণে ছড়িয়ে আছে। হ্যাঁ, বরফ। ইতিমধ্যে ক্ষুদ্র হিমযুগের প্রকোপ গোটা ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় ছড়িয়েছে, ম্যাসাচুসেটসের আশেপাশে বিশাল মিঠে জলের লেকগুলো জমে গিয়ে রূপান্তরিত হয়েছে বিশুদ্ধ নীলাভ বরফে। টিউডর আইস কোম্পানি নাম দিয়ে নতুন এক সংস্থা খুলল ফ্রেডেরিক, কাঠ চেরাই কলের লম্বা করাত আনিয়ে লেকের বরফ চৌকোনা করে কেটে নিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে চাপিয়ে আনালো বন্দরে।

    ‘এ এক উন্মাদ প্রকল্প!’ বস্টনের বিনিয়োগকারীরা একযোগে বলল।

    ‘ক্রিস্টোফার কলম্বাস নামে যে হিস্পানিটা ইন্ডিয়া যাবে বলে নতুন এই মুলুকে এসে পড়ল, তার থেকেও বড়ো উন্মাদ প্রকল্প কি?’ ফ্রেডেরিক জবাব দিল।

    প্রথমবার যখন ১৮০ টন বরফ পাঠানো হল, বিষুব গ্রীষ্মের আতপ্ত মহাসাগর পেরিয়ে চারমাস বাদে যখন সেই জাহাজ এসে ভিড়ল কলকাতার বন্দরে, গলে যাবার পরেও যত পরিমাণ রয়ে গেল সে কিছু কম নয়। কলকাতায় খবরটা ছড়ালো প্লেগের চেয়েও দ্রুত। সাহেব-মেমের দল জাহাজঘাটায় ভিড় জমালো। সেই অত্যাশ্চর্য পণ্য চাক্ষুষ করেও সুখ, স্পর্শ করলে কিংবা জিভে ছোঁয়ালে তো কথাই নেই।

    সেই বরফের একটা টুকরো নগদ মূল্যে কিনে এনেছিল অ্যান্টনি সাহেব, ধর্মতলার আফিমখোর সঙ্গীসাথীদের তাক লাগিয়ে দেবে বলে। গাজনের সময় ভক্তরা দেহে বাণ ফুঁড়ে, অঙ্গারের ওপর হেঁটে ভোজবাজি দেখায়। গ্রীষ্মের তপ্ত বিকেলে বড়ো একখণ্ড বরফ ভোজবাজি বই তো কী?

    গোবর্ধনের কাছে খন্ডা চেয়ে নিয়ে খানিকটা ঝুরো বরফ চেঁছে অ্যান্টনি ননীর হাতে দিল। একই সঙ্গে বিস্ময় মুগ্ধতা আর আতঙ্কের অনির্বচনীয় হিমপোড়া অনুভূতিতে মুখে পুরে দিল সে।

    ‘কেমন লাগছে?’ সাহেব শুধোয়।

    ননীর মুখে বাক্যি ফোটে না। চোখ বন্ধ করে জিভের ওপরে রেখে চুষতে চুষতে ননী টের পায় তিন-তিনটি মহাসাগর পেরিয়ে বয়ে আসা নোনা বাণিজ্যবায়ু, পাইনবনের সুগন্ধ, গোলার্ধ ব্যেপে হিমবাহের ধীর চলন।

    স্ফটিকটি তুলে এনে দোকানের সামনে বাঁশের মাচায় রাখা হলো, যেন এক নতুন বিগ্রহ। এবং তার থেকে টুকরো ভেঙে নিয়ে গোবর্ধন ভাঙের শরবতে মিশিয়ে দিল।

    প্রথম ভাঁড়টি সে সসম্ভ্রমে তুলে দিল অ্যান্টনি সাহেবের হাতে।

    ঘন এলাচগন্ধী সবুজাভ তরলে চুমুক দিয়ে লালচে গোঁফজোড়া মেরজাইয়ের আস্তিনে মুছে সাহেব ঘোষণা করল— ‘এই সেই শীতল দোব্য যা আমার শ্যামা মায়ের সোয়ামি রোজ কৈলাসে বসে পান করে!’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Our Picks

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }